Creating  healthier  tomorrow

Blogs

রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নে আমাদের করনীয়

Published by Jahangir Alam Khan    May-31-2018

Blog Image

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য বলতে শারীরিক ভালো লাগা, মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক সুসম্পর্ক ও নৈতিক বা আত্মিক উন্নয়নের একটা সামগ্রিক অবস্থা তথা ‘সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে বোঝায়। এ রূপ একটি সামগ্রিক স্বাস্থ্য গড়ে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞরা সঠিক এবং পরিমিত আহার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিত্যাগ এই তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেন। পাশাপাশি দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং মানসিক চাপ মুক্ত থেকে জীবন যাপন করতেও উপদেশ দিয়ে থাকেন।

অতি সম্প্রতি ( ডিসেম্বর, ২০১৭) পাবলিক হেলথের সবচেয়ে বিখ্যাত জার্নাল Lancet এ প্রকাশিত ফাউন্ডিংস অনুযায়ী ইন্ডিয়ায় প্রায় ৬২% মানুষ ক্রোনিক ডিজিজে (NCD- noncommunicable disease) মারা যায়। ইফেক্টেশাস ডিজিজে মৃত্যুর হার প্রায় ২৭%। বাংলাদেশে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার, হাপানী, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি অ-সংক্রামক এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ সহ অপুষ্টি, মুটিয়ে যাওয়া, যৌন অক্ষমতা, মানসিক চাপ ইত্যাদি সমস্যার পরিমানও দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর এই সকল রোগের জন্য অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অলস ও অনিয়মিত জীবন যাপন এবং ধূমপান ও মাদকাসক্তি এই তিনটি বিষয়ই প্রধানত দায়ী। এ ছাড়াও পরিবেশ দূষণ, খাদ্যে ভেজাল, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি কারনেও এই সমস্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ।

অথচ আমরা একটু চেষ্টা করলেই, কিছুটা সচেতন হলেই এই ধরনের রোগ বালাই থেকে মুক্ত থেকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে পারি। কেননা, এই সকল রোগের ক্ষেত্রে প্রতিকার বা নিরাময়ের সহজ কোন উপায় নেই বা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভবনাই থাকে না এবং কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সাবধানতার সাথে জীবন যাপন করে হয়ত নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সুতরাং ক্রোনিক ডিজিজে (NCD- noncommunicable disease) এর বেলায় প্রতিরোধ কেবল উত্তম নয় বরং আবশ্যক বলা যায়।

বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল শাফী মজুমদার বলেন, ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় এ দেশে হৃদ্রোগের ধরন আলাদা। এ দেশে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে হৃদ্রোগের প্রকোপ বাড়ছে। শিশুদের হৃদ্রোগের সূত্রপাত ১০-১৫ বছর বয়স থেকেই শুরু হতে পারে। তিনি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত হাঁটা ও সাঁতারের ওপর জোর দেন।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, দেশে চার কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে। ৪৫ শতাংশ পুরুষ ধূমপায়ী। অসংক্রামক রোগের জন্য সবচেয়ে বড় কারণ তামাক। তামাক যে হৃদ্রোগ বা ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে, তা ১৯৬৪ সালেই জানা যায়। এত দিনেও তামাককে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এ নিয়ে আইন থাকলেও আইনের যথার্থ প্রয়োগ নেই। তিনি বলেন, ই-সিগারেটের পক্ষে কথা বলছে সিগারেট কোম্পানিগুলো। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানেরা ই-সিগারেটের দিকে ঝুঁকছে। বাস্তবে ই-সিগারেটের হাত ধরেই তারা ধূমপায়ী হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রিটিকিন লংজিবিটি সেন্টার ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা: ডিন অরনিশের বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, সঠিক ও পরিমিত আহার, ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ কমানোর কৌশলের মাধ্যমে জীবনধারা পরিবর্তন করে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি আধুনিক সভ্যতার মারণব্যাধিগুলো প্রতিরোধ ও নিরাময় করা যায়।

কথায় আছে “লজ্জা, ঘৃণা, ভয় এই তিন থাকিলে কিছুই নাহি হয়”, এই কথাটা যেমন জীবন গঠন বা ক্যারিয়ার গঠনের বেলায় সত্য, তেমনি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অলস ও অনিয়মিত জীবন যাপন এবং ধূমপান ও মাদকাসক্তি এই তিন হল আমাদের শারীরিক অসুস্থতার বড় কারণ। তাই আমাদের রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপনের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পরিমিত পরিশ্রম করা এবং ধূমপান ও মাদক এড়িয়ে চলা এই তিনটি বিষয়ে মনযোগী হওয়া উচিত।

 

লেখকঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান ( প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, মেডিটর হেল্‌থ)

রেফারেন্সঃ
1. http://www.who.int/gho/ncd/en/
2. http://newyork.cbslocal.com/2017/11/29/study-shows-obesity-to-blame-for-increased-non-communicable-disease-cases-worldwide/
3. https://www.k4health.org/toolkits/bangladesh-health-journalists/non-communicable-disease-ncds
4. http://m.dailynayadiganta.com/detail/news/262843
5. https://goo.gl/N1BnYd